যুক্তরাজ্যে বাজেট বৈঠকের পর বাড়তে পারে ধনীদের দেশত্যাগ

নভেম্বরে নির্ধারিত বাজেট বৈঠকের পর যুক্তরাজ্য থেকে ধনীদের দেশত্যাগের প্রবণতা আরো বাড়তে পারে।

নভেম্বরে নির্ধারিত বাজেট বৈঠকের পর যুক্তরাজ্য থেকে ধনীদের দেশত্যাগের প্রবণতা আরো বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্থায়ী নিবাসী (নন-ডম) কর ব্যবস্থায় সংস্কার-সংক্রান্ত আলোচনা ধনসম্পদ ও দক্ষ জনশক্তি উভয়েরই বহির্মুখী প্রবাহকে আরো গতিশীল করতে পারে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

আর্থিক নীতির অস্থিরতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের অবনতি নিয়ে ব্রিটিশদের অস্বস্তি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা অংশীদার ও ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা (ইএমইএ) অঞ্চলের গভর্নমেন্ট অ্যাডভাইজারি বিভাগের ফিলিপ আমারান্ত বলেন, ‘অনেকেই দেশ ছাড়ছে। ব্যবসায়িক আস্থা ও নীতিনির্ধারণে স্থিতিশীলতা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।’

সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী ২০২৫ সালে রেকর্ড ১৬ হাজার ৫০০ ধনী যুক্তরাজ্য ত্যাগ করতে পারেন। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশ ছাড়েন ৯ হাজার ৫০০ ধনী, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

২০১৭ সাল থেকে ১৬ হাজারেরও বেশি মিলিয়নেয়ার হারিয়েছে যুক্তরাজ্য। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের হিসাব অনুযায়ী এক দশকে দেশটির ধনী জনগোষ্ঠী প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে অন্যান্য বড় অর্থনীতিতে বেড়েছে।

ফিলিপ আমারান্ত বলেন, ‘ব্রেক্সিট, নন-ডম কর ব্যবস্থার পরিবর্তন, ব্যবসায়িক মনোভাব ও নিয়ম-কানুন বারবার পরিবর্তন ধনীদের বিকল্প আবাস খুঁজতে বাধ্য করছে। ধনী ও সফল মানুষ নিরাপদ পরিবেশে থাকতে চায়। নিরাপদ মানে শুধু অপরাধহীন নয়, বরং নীতিনির্ধারণেও স্থিতিশীলতা থাকতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে লন্ডনকে আগের মতো বিশ্বের কেন্দ্র মনে হয় না। অনেক ক্লায়েন্ট ফোন করে বলছেন যে আমাদের কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই। এ পরিবেশে আর থাকা যাচ্ছে না। এতে আস্থার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং উদ্যোক্তারা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।’

ফিলিপ আমারান্ত বলেন, ‘আমি আশা করি নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের বাজেট বৈঠকে এ ক্ষতিকর প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হবে। বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করি না। তবে আশা করি সবাই কিছুটা হলেও বাস্তবতা উপলব্ধি করবে।’

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী নাগরিকত্ব ও বসবাস-বিনিয়োগ কর্মসূচিতে আবেদন বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আবেদন বেড়েছে ১৬১ শতাংশ। তবে মার্কিনদের যুক্তরাজ্যে স্থানান্তর দেশত্যাগী ব্রিটিশ ধনীদের সংখ্যার সঙ্গে তুলনীয় নয়।

ফিলিপ আমারান্ত বলেন, ‘এটি আসলে ‘ডি-রিস্কিং’ বা ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতার অংশ। ধনীরা এখন নিশ্চয়তা ও স্থিতিশীলতায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। যখন দেখবেন এক প্রতিবেশী দেশ ছাড়ছে, তারপর অন্য পাশের প্রতিবেশীও যাচ্ছে—তখন নিজেকেও প্রশ্ন করবেন, হয়তো ব্যাগ গুছিয়ে নেয়া উচিত।’

এদিকে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করা ধনীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউইএ) চাকচিক্যময় শহরগুলো। সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত আবুধাবি ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে (এডিআইএফ) বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যুক্তরাজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়লেও আবুধাবি এখন দেশটির বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের কাছে নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্য, গবেষণা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক খাতে সেখানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহও বাড়ছে।

আরও